Friday , 13 December 2019

এইমাত্র পাওয়া খবর
Home » নওগাঁ জেলার খবর » নওগাঁয় বছরে ৪ মাস পানির নিচে সড়ক: দূর্ভোগে এলাকাবাসী

নওগাঁয় বছরে ৪ মাস পানির নিচে সড়ক: দূর্ভোগে এলাকাবাসী

November 14, 2019 11:16 am by: Category: নওগাঁ জেলার খবর, বাংলাদেশ Leave a comment A+ / A-

নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা ঃ নওগাঁয় সদর উপজেলার দুবলহাটি থেকে ভীমপুর। দুরুত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকা। রাস্তা থাকলেও বছরের চারমাস থাকে পানির নিচে। বর্ষা মৌসুমে কালিপুর, সুনুলিয়া, হাতাস, প্রতাবদহ ও শশিধরপুর সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষদের চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে আর বর্ষা মৌসুমে নৌকায় তাদের একমাত্র ভরসা। ভীমপুর থেকে বারোমাসা বিল (বিল মুনছুর) পার হয়ে হাতাস গ্রাম। দুরুত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। যেখানে সড়কের সংযোগ ছাড়াই রয়েছে ৪ টি ব্রিজ। বর্ষা মৌসুমে এই ব্রিজগুলো কোন কাজে আসেনা। রাস্তা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে যা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
জানাগেছে, সদর উপজেলার শহরের আরজি-নওগাঁ শাহী মসজিদ থেকে হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের ভীমপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার সড়ক। এরমধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ করা হয়েছে। আবার দুবলহাটি বাজার থেকে ভীমপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত বাঁকী আছে ৬ কিলোমিটার। দুবলহাটি বাজার থেকে হাঁসাইগাড়ী বিলের মধ্য দিয়ে কাটখৈর বাজার হয়ে ভীমপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত যে পাকা সড়ক রয়েছে তার দুরুত্ব প্রায় ১৫কিলোমিটার।


অপরদিকে, দুবলহাটি বাজার থেকে প্রতাবদহ, শশিধরপুর, কালিপুর, চোয়ারাপাড়া, হাতাস, মধ্যহাতাস ও সুনুলিয়া গ্রাম হয়ে বারোমাসা (বিল মুনছুর) বিলের মাঝ দিয়ে ভীমপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করা হলে প্রায় ৯ কিলোমিটার সাশ্রয় হবে। এ এলাকাগুলো সদর উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকা। এসব গ্রামের মানুষ তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে ঠিক সময় নিতে পারে না।
বর্ষা মৌসুমে এসব গ্রামের মানুষদের চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে নৌকা তাদের একমাত্র ভরসা। বর্ষার সময়ে এ গ্রামগুলো দুর থেকে দেখলে মনে হবে এক একটি দ্বীপ। এ ৬ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করা হলে- সদর উপজেলাসহ জেলার মান্দা উপজেলার ও মহাদেবপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের সুবিধা হবে।
একই সড়কের ভীমপুরগ্রাম থেকে বারোমাসা বিল পার হয়ে হাতাস গ্রামের দুরুত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। যেখানে সড়কের সংযোগ ছাড়াই রয়েছে ৪ টি ব্রিজ। বর্ষা মৌসুমে এই ব্রিজগুলো কোন কাজে আসেনা। বছরে চার মাস রাস্তা পানির নিচে ডুবে থাকে। এই রাস্তা না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা তাদের মাঠের ন্যায্য ফসল পাওয়া থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার সময় গ্রামগুলোর যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। ব্রীজ আছে কিন্তু রাস্তা নাই। রাস্তা হলে অনেক উপকার হতো। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে দ্রুত বোরো ধান সংগ্রহ করা যেত। এমনকি ফসলের চাষ ও পরিচর্যাও করা যেত সহজেই। শুধু যাতায়াত বিড়ম্বনার জন্য ফসল অনেকটা কম হচ্ছে। সড়কটি দ্রুত সংষ্কার করা হলে বোরো চাষাবাদ করতে সহজ হয়। এমনকি আরো কয়েক শ’ টন ধান বেশি উৎপাদন হবে বলে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা। রাস্তা হলে সহজেই েেতর জমিতে যাতায়াত করা এবং সময়, শ্রম ও ফসলহানীর শঙ্কাও কমে যেত। আর ফসলের উৎপাদনও হতো দ্বিগুণ।
ভীমপুর গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান সরদার বলেন, তার ১২ বিঘা জমি এ মাঠে আছে। হাজার হাজার বিঘা জমি রয়েছে বারোমাসা বিলে। ধান কাটার সময় হঠাৎ করে বৃষ্টি হলে ফসল ডুবে যায়। তখন ধান কাটা ও জমি থেকে উঠানো নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় কৃষকদের। এতে শ্রমিক খরচ বেশি পড়ে। কয়েকটি ব্রীজ পানির মধ্যে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। রাস্তা থেকেও নেই বললেই চলে। যদি রাস্তাটি সংস্কার করা হয় তাহলে ধান কেটে সহজেই রাস্তায় উঠিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসা সম্ভব।
একই গ্রামের এসএম জালাল হোসেন পিন্টু বলেন, ব্রিটিশ সময় থেকে রাস্তাটি আছে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি কোন কাজে আসছে না। উপর থেকে পানি এসে মাঠের ধান ডুবে যায়। গতবছর একটি খাল খনন হওয়ার পর কিছুটা উপকার হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে ধান কাটতে যেখানে ২ হাজার টাকা খরচ হতো সেখানে বৃষ্টির কারণে ৪/৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এই রাস্তাটি হয়ে গেলে জেলা শহরের সাথে দুরুত্ব অনেক কমে যাবে। অল্প খরচে মানুষ চলাচল করতে পারবে। ভাদ্র থেকে অগ্রহায়ন (চার) মাস পর্যন্ত রাস্তা ডুবে থাকে। অগ্রহায়নের শেষের দিকে রাস্তা জেগে উঠে। এলাকার কয়েক হাজার বোরো চাষিদের েেত মাঠে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি।
নওগাঁ সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার (এলজিইডি) প্রকৌশলী ইমতিয়াজ জাহিরুল হক বলেন, ওই রাস্তা সরস্কারে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকার একটা প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসার পর রাস্তাটি সংস্কার করা হবে।
নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই রাস্তাটি এলাকাবাসীর জন্য খুবই জরুরী। রাস্তা করা হলে- বিশেষ করে কৃষি কাজের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। প্রতি বছরই কৃষকদের ফসল নিয়ে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আলোচনা করেছি।#

নওগাঁয় বছরে ৪ মাস পানির নিচে সড়ক: দূর্ভোগে এলাকাবাসী Reviewed by on . নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা ঃ নওগাঁয় সদর উপজেলার দুবলহাটি থেকে ভীমপুর। দুরুত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকা। রাস্তা থাকলেও বছরের চারমাস থাকে পানির নিচে। নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা ঃ নওগাঁয় সদর উপজেলার দুবলহাটি থেকে ভীমপুর। দুরুত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকা। রাস্তা থাকলেও বছরের চারমাস থাকে পানির নিচে। Rating: 0

Leave a Comment

scroll to top