নওগাঁয় আমের বাম্পার ফলনের আশা

গত বছরের মতো এ বছরও বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দাবি

নওগাঁয় আমের বাম্পার ফলনের আশা


মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ ঃ চলতি মৌসুমে আম চাষে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নওগাঁয় গাছে গাছে আমের ব্যাপক মুকুল এসেছে। অনেক গাছে আমের গুটিও দেখা দেওয়ায় আম পরিচর্যায় ব্যস্থ সময় পার করছেন চাষিরা। গত বছর করোনা ভাইরাসের করাকরির সময় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারসহ প্রশাসনের ব্যাপক সহযোগিতায় আমের ভালো দাম পেয়েছে আম চাষিরা। এ বছরও সারাদেশে আম সরবরাহে খাদ্যমন্ত্রীসহ প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। নওগাঁয় চলতি মৌসুমে ১৪শ’ কোটি টাকা আম কেনা-বেচা ও ৩ লাখ মেট্রিকটন আম উৎপাদন হওয়ায় আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
জানা গেছে, ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে পরিচিত নওগাঁর সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর, পতœীতলা উপজেলা। এখানকার মাঠগুলো উঁচু-নিচু এবং পানির স্তর অনেক নিচে হওয়ায় সারা বছর সেচ ব্যবস্থায় সহজ হয় না। ফলে বছরের বেশি সময় ধরে পতিত থাকতো জমিগুলো প্রতি বছর জেলায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠছে। চলতি মৌসুমে আম চাষে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নওগাঁয় গাছে গাছে আমের ব্যাপক মুকুল এসেছে। আবার অনেক গাছে আমের গুটিও দেখা দিয়েছে। ফলে আমের ভালো ফলন পাওয়া ও উৎপাদনের আশায় আম পরিচর্যায় ব্যস্থ সময় পার করছেন চাষিরা। 
কৃষি অফিস ও কৃষক সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁয় উন্নত জাতের ল্যাংরা, ফজলি, অ¤্রপালি, বারি-৪, বারি-৭, নাগফজলি, আশ্বিনা, ঝিনুক, গৌড়মতি চাষ হয়ে থাকে। এই আমদের মধ্যে অ¤্রপালি, বারি-৪ সবচেয়ে বেশি চাষ হয়ে থাকে। নওগাঁয় চলতি বছরে ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। গত বছর ২৪ হাজার ৭শ’ ৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল।
সাপাহার সদরের আম বাগানের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পানির অভাবে আগে বরেন্দ্র ভূমির এসব জমিগুলোতে শুধু মাত্র বর্ষ মৌসুমে ধানসহ সবজি চাষ হতো। তবে সময় পরিবর্তন হয়েছে। ধান চাষের চেয়ে আম চাষে কয়েকগুণ লাভ হওয়ায় প্রতি বছর আম বাগান গড়ে উঠছে। 
আরেক বাগানের ম্যানেজার নরেশ চন্দ্র জানান, ইত্যে মধ্যে আম বাগানে গাছে গাছে ব্যাপক মুকুল ধারেছে। আবার অনেক গাছে আমের গুটি এসেছে। ফলে আমার মতো সকল কৃষকরা আম গাছে কিটনাশক প্রয়োগসহ গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। 
সাপাহার উপজেলা সদরের চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা সাখওয়াত হোসেন জানান, গত বছর ২ বছর বয়স থেকে ৭ বছর বয়সের প্রতি বিঘা আম বাগান বিক্রি করেছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। এ বছর আবহাওয়া ভালো এবং রোগ বালাই না থাকায় গত বছরের তুলনায় আমের ব্যাম্পর ফলন ও দাম পাওয়ার আশায় রয়েছে। প্রতি বিঘায় আম দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে। 
পোরশা উপজেলার সারাইগাছী উপজেলার রইচ উদ্দিন জানান, এখানকার মাটি এঁটেল হওয়ায় আম সুস্বাদু ও মিষ্টি হয়ে থাকে। এখানকার আম চাষিরা এখন দেরিতে উৎপাদিত হওয়া জাতের আম অ¤্রপালি, বারি-৪, বারি-৭, নাগফজলি, আশ্বিনা, ঝিনুক, গৌড়মতি চাষে ঝুঁকেছে। এই আমগুলো দেড়িতে নামায় শেষে বেশি দাম পাওয়া যায়। 
সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমিতি সাংগঠনিক সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত জানান, করোনা ভাইরাস সময়েরও মধ্যে গত বছর নওগাঁ সাপাহার বাজার থেকে ৮শ’ কোটি টাকা থেকে ৯শ’ কোটি টাকার আম সারাদেশে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। এ বছর বরেন্দ্র ভূমিতে সাপাহার বাজারে আম ১২শ’ কোটি টাকার কেনাবেচা হওয়ায় সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। গত বছরের মতো খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদাসহ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন আম ব্যবসায়ী এই নেতা। তিনি আরো জানান, সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর, পতœীতলা ছাড়াও বদলগাছী, ধামইরহাট, নওগাঁ সদর, আত্রাই, মান্দা, মহাদেবপুর উপজেলায় কোটি কোটি টাকার আম কেনা-বেচা হয়ে থাকে। 

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল ওয়াদুদ জানান, জেলায় আম সুস্বাদু, মিষ্টি, নিরাপদ উৎপাদনে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে আসছে। নওগাঁর আম সারাদেশে চাহিদা থাকায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। ফলে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, আম চাষ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নওগাঁয় প্রায় তিন লাখ মেট্রিকটন আম উৎপাদনে সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ জানান, সারাদেশের মধ্যে আম উৎপাদনে নওগাঁয় শীর্ষে রয়েছে। আর এই আম বাগানকে ঘিরে নওগাঁয় শতশত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আম চাষিদের বিপনে গত বছরের মতো (করোনা ভাইরাসকালীন) এ বছরও সরকারি ভাবে সকল সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।