Friday , 20 September 2019

এইমাত্র পাওয়া খবর
Home » নওগাঁ জেলার খবর » নওগাঁর রাণীনগরে হুমকির মূখে যমুনা নদীর বেরি বাঁধ ॥ যে কোন মুহুর্তে ভেঙ্গে শতাধীক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা!

নওগাঁর রাণীনগরে হুমকির মূখে যমুনা নদীর বেরি বাঁধ ॥ যে কোন মুহুর্তে ভেঙ্গে শতাধীক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা!

অভিভাবকহীন বাধঁ ॥ ৪০ বছরেও সংস্কারের উদ্যোগ নেইনি কেউ

July 16, 2019 1:33 pm by: Category: নওগাঁ জেলার খবর, বাংলাদেশ Leave a comment A+ / A-

মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ থেকে ঃ নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর রাণীনগর অংশের নান্দাইবাড়ী-কৃষনপুর বেরি বাঁধের অভিভাবক কে? এটা নির্নয় না হওয়ায় গত ৪০ বছরেও সংস্কারের উদ্যোগ নেইনি কেউ। ফলে ধীরে ধীরে বাঁধের মাটি ধ্বসে চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যে কোন সময় ভেঙ্গে যাবার আশংকা করছেন এলাকাবাসি। বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে রাণীনগর এবং আত্রাই এই দুই উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হবে। এতে পানি বন্দি হয়ে পরবে লক্ষাধিক মানুষ ।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, নওগাঁর ছোট যমুনা নদী জেলার রাণীনগর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে আত্রাই নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। প্রায় ৮০ দশকে গোনা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন সময়ের চেয়ারম্যান আহাদ আলী প্রামানিক খাদ্যের বিনিময়ে কর্মসূচির আওতায় নান্দাইবাড়ী এলাকায় প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা কাম বেরি বাঁধ নির্মান করেন। এরপর থেকে প্রায় ৪০ বছর ধরে বাঁধটি সংস্কার করা হয়নি। ফলে তৎকালীন সময়ে নির্মিত বাঁধের দু’পাশের মাটি ভেঙ্গে একদম সরু হয়ে হয়ে পরেছে। বর্তমানে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নান্দাইবাড়ী থেকে মালঞ্চি হয়ে কৃষœপুর পর্যন্ত বাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফাটল ধরে হুমকির মূখে পড়েছে। গত ক’দিনের ভারী বর্ষন আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে ফুঁসে উঠেছে নদী। ফলে যে কোন মর্হুতে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসি। ওই এলাকার আব্দুল মজিদ,আবুল হোসেন,আনোয়ার হোসেন, রবিন আহম্মেদসহ অনেকেই জানান, তিন দিন ধরে বাঁধের উপরেই রাত কাটাতে হচ্ছে । না জানি কখন বাঁধ ভেঙ্গে যায় । তবে এভাবে পানি বাড়তে থাকলে দুই এক দিনের মধ্যেই বাঁধ ভেঙ্গে যাবে। আর বাঁধ ভেঙ্গে গেলে মালঞ্চি, কৃষœপুর, চাপড়া, গোনা, কাশিমপুর, রসুলপুর, ভোপাড়াসহ দুই উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে যাবে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরবে। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন বাঁধটি সংস্কার না করায় এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, সংস্কার হবেই বা কি করে, যেখানে বাঁধের অভিভাবকই নেই সেখানে কাজ করবে কে?
রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসের সুত্র মতে, গত বছরের বন্যায় রাণীনগর উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির ধান বন্যার পানিতে তলে যায়। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, ওই বছর নওগাঁ-আত্রাই পাকা সড়কের রাণীনগর সিমানার মিরাপুর,ঘোষগ্রাম,কৃষœপুরসহ প্রায় ৫ জায়গায় পাকা সড়ক ভেঙ্গে জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় । এসব ভাঙ্গনের স্থানে শুধু মাত্র বালি দিয়ে বাধ বেধে উপরে ইট সোলিং করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভরাট করলেও পূণরায় ভাঙ্গনের স্থানে পাকা করা হয়নি । ফলে আবারো ভাঙ্গনের আশংকা করছেন এলাকাবাসি।
এব্যাপারে গোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত খান হাসান জানান, বাঁধটি সংস্কারের জন্য আমি সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয় পর্যন্ত ধর্না দিয়েছি কিন্তু লাভ হয়নি। কারণ বাঁধটি কোন দপ্তরের আওতায় ,কে এই বাঁধের অভিভাবক, তা কেউ বলতে পারেনা। ফলে বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগও কেউ নিচ্ছে না। গত দু’বছর আগে বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে স্থানীয় এমপি সাহেবের বিশেষ বরাদ্ধ থেকে এবং ৪০ দিনের কর্মসূচির লোকজন দিয়ে এলাকাবাসির সহযোগিতায় কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে।
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন জানান, বাঁধটি সংস্কার করা অনেক ব্যয়বহুল এবং সময়ের ব্যাপার । ইতি মধ্যে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয় বোর্ডের কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বাঁধটি যেন না ভাঙ্গে সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁশ,খুৃঁটি দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে বাঁধ ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে । এছাড়া যদিও পান্নি উন্নয় বোর্ড বলেছে বাঁধটি তাদের না, তারপরেও তাদেরকে পানি উন্নয়ন বোডের আওতায় নিয়ে সংস্কার করার জন্য বলা হয়েছে।#

নওগাঁর রাণীনগরে হুমকির মূখে যমুনা নদীর বেরি বাঁধ ॥ যে কোন মুহুর্তে ভেঙ্গে শতাধীক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা! Reviewed by on . মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ থেকে ঃ নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর রাণীনগর অংশের নান্দাইবাড়ী-কৃষনপুর বেরি বাঁধের অভিভাবক কে? এটা নির্নয় না হওয়ায় গত ৪০ বছরেও সংস্কারের উদ্যোগ মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ থেকে ঃ নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর রাণীনগর অংশের নান্দাইবাড়ী-কৃষনপুর বেরি বাঁধের অভিভাবক কে? এটা নির্নয় না হওয়ায় গত ৪০ বছরেও সংস্কারের উদ্যোগ Rating: 0

Leave a Comment

scroll to top