নওগাঁর মহাদেবপুরে করোনা প্রতিরোধে মাঠে নেমেছেন ইউএনও, ম্যাজিষ্ট্রেট, ওসি, চেয়ারম্যান-মেম্বার

নওগাঁর মহাদেবপুরে করোনা প্রতিরোধে মাঠে নেমেছেন  ইউএনও, ম্যাজিষ্ট্রেট, ওসি, চেয়ারম্যান-মেম্বার


মহাদেবপুর প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর মহাদেবপুরে করোনা প্রতিরোধে মাঠে নেমেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ম্যাজিষ্ট্রেট, থানা পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, জেলা পরিষদের সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার, সম্ভাব্য প্রার্থী, সচেতন সাংবাদিক ও চৌকিদার, দফাদার। ফলে এলাকার জনমনে সচেতনতা বেড়েছে। বেড়েছে মাস্কের ব্যবহার।
এবারে সরকারের ঘোষিত লকডাউন শুরুর আগে থেকেই তারা তৎপরতা শুরু করেন। এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান মিলন। তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে যে কোন নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। লকডাউন শুরুর আগেই জনগণকে লকডাউন মেনে চলার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়েছে, মাস্ক ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া লকডাউন চলাকালে প্রতিদিন উপজেলার ১০ ইউনিয়নে মোট ১২ টি মাইক টিমের মাধ্যমে সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। 
তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের বেশীরভাগ কর্মকর্তাকে নিয়ে তিনি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচার করছেন। হাট-বাজার, দোকান, গণপরিবহণে প্রচার ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। এই ক্ষেত্রে তাঁকে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আসমা খাতুন। লকডাউন শুরুর আগে থেকেই তিনি নিজে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে একদিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) একদিন, এভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। তার সাথে থাকছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আহসান হাবীব ভোদন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী অনুকুল চন্দ্র সাহা বুদু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া রহমান পলি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায়, জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান, বন কর্মকর্তা আহসান হাবীব, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা একেএম জামান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মুসা আল আশআরী, সাংবাদিক কাজী সামছুজ্জোহা মিলন, সাংবাদিক আমিনুর রহমান খোকন, সাংবাদিক বরুণ মজুমদার প্রমুখ।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব ভোদন জানান, দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জানানো হয়েছে মানুষকে সচেতন করতে, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ও মাস্ক বিতরণ করতে। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছেন। তার সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের মানুষ সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছে। তিনি সকলকে সরকারের ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রতিদিন অতন্দ্র প্রহরীর মত দায়িত্ব পালন করেন মহাদেবপুর থানা পুলিশ। উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে হ্যান্ড মাইকের সাহায্যে মানুষকে সচেতন করা, মাস্ক বিতরণ ও গণপরিবহণ নিয়ন্ত্রণের কাজ করেন তারা। লকডাউন শুরুর আগে তারা একটি বিশাল মোটরসাইকেল র‌্যালীর আয়োজন করেন। করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন শ্লোগানে ভরা ফেষ্টুনসহ প্রায় দুইঘন্টা কালব্যাপী র‌্যালীটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় পুলিশ ভ্যানে টাঙ্গানো মাইকে বিভিন্ন উপদেশ প্রচার করা হয়। মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এ কে আজাদ, এসআই আবু রায়হান আলম সরদার, এসআই এমদাদ, এসআই খালেক, এসআই সাইফুল, এসআই শামীম, এসআই জাহিদ, এসআই শামির, এসআই শাহজাহান, এসআই জয় দাস, এএসআই মনোয়ারা, এএসআই মনিরসহ থানার ৬০ জন পুলিশ সদস্য র‌্যালিতে অংশ নেন। র‌্যালিটি দেখতে রাস্তার দুধারে মানুষ সমবেত হয়। মাইকিং শুনে অনেকেই পকেটে রাখা মাস্ক বের করে মুখে লাগান।
ওসি বলেন, ‘করোনাকালে পুলিশ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে সাধারণ মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন। তারা করোনা আক্রান্তদের সেবা দিয়েছেন, খাবার দিয়েছেন, ওষুধ দিয়েছেন। কেউ মারা গেলে আত্মীয়রা কবর দিতে দেয়নি, পুলিশ তাদের সৎকার করেছে। করোনায় অকুতোভয় কাজ করতে গিয়ে পুলিশের অনেক গর্বিত সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ দিয়েছেন। এবারও পুলিশ মানুষের পাশে রয়েছে সবসময়।’
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দিনরাত কাজ করছেন মহাদেবপুর এলাকার নবনির্বাচিত নওগাঁ জেলা পরিষদের সদস্য নিপন বিশ^াস রিপন। তিনি জানান, এলাকার জন্য জেলা পরিষদ থেকে চার হাজার তিনশ’ মাস্ক দেয়া হয়েছে। তিনি প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে, প্রতিষ্ঠানে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেগুলো বিতরণ করছেন। 
উপজেলার ১০ টি ইউপির চেয়ারম্যান মেম্বারও কাজ করছেন নিরলসভাবে। সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ধলু করোনার শুরুতেই নিজে একটি রিক্সাভ্যানে চেপে নিজেই মাইকিং করতে থাকেন। মোড়ে মোড়ে তিনি জনতার উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘একমাত্র সচেতনতাই পারে মানুষকে করোনা থেকে রক্ষা করতে।’ এছাড়া সফাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আলম বাচ্চু, উত্তরগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আবিদ হোসেন সরকার, ভীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান শ্রী রাম প্রসাদ ভদ্র, চেরাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান শ্রী শিবনাথ মিশ্র, রাইগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম মঞ্জু, এনায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিঞা, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, চাঁন্দাশ ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদান নবী রিপন, খাজুর ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন প্রমুখ প্রচারণায় অংশ নেন।
সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাঈদ হাসান তরফদার সাকিল, নাহিদ মোস্তফা, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চৌধুরী দুলাল, গতবারের ধানের শীষের প্রার্থী হাজী আক্কাস, খাজুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আমিনুর রহমান বিশ^াস বাদল প্রমুখ সচেতনতামূলক প্রচার, মাস্ক, স্যানিটাইজার ও সাবান বিতরণ করছেন। এটাকেই তারা ভোটের প্রচার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
প্রচার কাজে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন ইউপির মেম্বার, মহিলা মেম্বার ও চৌকিদার, দফাদার, আনসার-ভিডিপি আর একদল সচেতন সাংবাদিক।#