সমস্যায় জর্জরিত নওগাঁর হাঁস প্রজনন খামার

সমস্যায় জর্জরিত নওগাঁর হাঁস প্রজনন খামার

স্টাফ রিপোর্টার --- নওগাঁর ‘আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার’ নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রায় ২২ বছর আগে নওগাঁ সদর উপজেলার সান্তাহার-ঢাকা রোডের শাহাপুর এলাকায় খামারটি স্থাপিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সংস্কার করা হয়নি। রাস্তায় পানি জমে থাকা, দেয়ালে নোনা ধরে পলেস্তারা খসে পড়া ও নেটগুলোতে মরিচা ধরে নষ্ট হওয়াসহ নানা সমস্যা জর্জরিত এটি। আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের মধ্যে এটি সর্ববৃহৎ হলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেকটা খুঁড়িয়ে চলছে খামারের কার্যক্রম।

jagonews24

নওগাঁ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে সাত একর জমির ওপর খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে আটটি শেড, গুদাম ঘর, হ্যাচিং, অফিস কক্ষ ও আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে। একই বছরের ডিসেম্বর থেকেই খামারে বাচ্চা পালনসহ যাবতীয় কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে খামারে খাকি ক্যাম্পবেল ৩৫০ পিস, জেন্ডিং ৩১০ পিস এবং বেইজিং ৬০০ পিস জাতের হাঁস রয়েছে। এখানে বাচ্চা উৎপাদন, প্রজনন ও একদিন বয়সের বাচ্চা বিক্রি করা হয়।

এখানে বাৎসরিক লক্ষ্যমাত্রা- বাচ্চা উৎপাদন ১ লাখ ৩০ হাজার পিস, বাচ্চা পালন ৫ হাজার পিস ও ডিমের উৎপাদন ৩ লাখ ২৪ হাজার পিস। প্রতিমাসে পাঁচদিন পর পর হ্যাচিং থেকে বাচ্চা বের হয়। খামার থেকে উন্নত জাতের হাঁসের মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণ হচ্ছে।

jagonews24

এ খামার থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের নওগাঁ, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, দিনাজপুরসহ প্রায় ২০টি জেলায় উৎপাদিত খাকি ক্যাম্পবেল, জেন্ডিং ও বেইজিং হাঁসের বাচ্চা সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে চাহিদার তুলনায় বাচ্চার উৎপাদন কম।

খামারের ভেতরে প্রায় এক কিলোমিটার ইটের হেয়ারিং রাস্তা রয়েছে। রাস্তা নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকে। খামারটি স্থাপিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সংস্কার করা হয়নি। দেয়ালে নোনা ধরে পলেস্তারা খসে পড়ছে, ছাউনির টিনে মচিরা এবং নেটগুলোতে রং না করায় মরিচা ধরে নষ্ট হয়েছে। অনেক জায়গায় মরিচা ধরে নেট ছিঁড়ে যাওয়ায় জোড়াতালি দেয়া হয়েছে। এছাড়া আবাসিক ভবনের অবস্থাও অনেকটা জরাজীর্ণ।

jagonews24

এ প্রসঙ্গে নওগাঁ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটি সরকারের একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সরকারি খামার হওয়ায় ভালো সেবা পেয়ে উদ্যোক্তারা উপকৃত হচ্ছেন। তবে বাচ্চার চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। সাধ্যমতো চেষ্টা করছি খামারিদের চাহিদা মেটানোর জন্য।

তিনি বলেন, এখানে মঞ্জুরিকৃত ১৪টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১২ জন। এর মধ্যে দুইজন প্রেষণে আছেন এবং ডাক অ্যাটেনডেন্ট পদ ফাঁকা রয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, খামারটি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। সবকিছু নতুন করে সংস্কার করা প্রয়োজন। শেডের নেট ও রাস্তা সংস্কার করা জরুরি। রাস্তার ইটগুলো অপসারণ করে পাকা রাস্তা নির্মাণ, অতিরিক্ত আরও দুইটি শেড নির্মাণ করা প্রয়োজন। চাহিদা মাফিক একটা বরাদ্দ পাঠানো হয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধান করা হলে জাতীয় অর্থনীতিতে খামারটি বড় ভূমিকা রাখবে।