নওগাঁয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের মানবেতর জীবন যাপন

নওগাঁয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের মানবেতর জীবন যাপন


মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ ঃ নওগাঁ সদর উপজেলার চকনদীকুল গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন (৭০) সরকারী রাস্তার সাথে লাগানো একটি মাটির ঘরে টিনের ছাপড়ায় সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এবছরের বন্যায় সেই ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরে ঝুকিপূর্ন ভাবে বসবাস করছে তারা। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে। তার নামে সরকারের দুটি ১৯ শতক জায়গা বরাদ্দের আশ্বাস দিলেও ওই গ্রামের প্রভাবশালী দুজন লীজ নিয়ে ভোগ দখল করে খাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার চকনদীকুল গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন ওই গ্রামের তুলশী গঙ্গা নদীর ধারে ঘর বাড়ী ছিল। নদীগর্ভে তা বিলিন হয়ে যায়। তারপর থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারী রাস্তার সাথে কোন রকমে মাটির ঘর করে বছরের পর বছর ধরে বসবাস করে আসছে। একটি ঘরেই স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধু ও নাতী নিয়ে তাদের বসবাস। বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল থাকলেও ঘরের সাথে খোলা আকাশের নিচে রান্না ঘর, আর পশেই পলেথিনের বেড়ায় কোন রকমে আছে ল্যাট্রিন। ঘরে নেই কোন আসবাবপত্র। মাটির মেঝেতেই মাদুর বিছিয়ে শোবার জায়গা। ২ ছেলে ও ৪ কন্যা সন্তানের জনক মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন। ৫সন্তানকে বিয়ে দিয়েছে। এক ছেলে ভ্যান চালক। অন্য ছেলে দিন মজুরের কাজ করে। তার রোজগার ও মুক্তিযোদ্ধার ভাতা দিয়ে কোন রকমে সংসার চালায় সে। সন্মুখ এই মুক্তিযোদ্ধা পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল। এখন বয়সের ভারে আর রোগবালায়ে আর চলতে পারে না। প্রতিমাসে স্বামী স্ত্র্র্র্রীর ঔষধ লাগে ৫/৬ হাজার টাকার। জেলা প্রশাসকের নিকট স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাসের জন্য একখন্ড জায়গার জন্য ধর্না ধরেও এখনও পর্যন্ত পায়নি তারা। ৯৫ সালে ওই গ্রামের পাশে দুটি জায়গা মিলে সরকারের ১৯ শতাংশ খাস জায়গা বরাদ্দের আশ্বাস দেয়। একটি জাযগা ১৩ শতক ডোবা অন্যটি ৬ শতক আবাদি জমি। প্রায় ২৫ বছর অতিবাহিত হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এখনও সেই জায়গা পায়নি। সেই জায়গা লীজ নিয়ে ভোগ দখল করছে ওই গ্রামের প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি। তার দাবী, জীবনের শেষ প্রান্তে সরকারের খাস জায়গা বরাদ্দ দিলে কোন রকমে সন্তানদের নিয়ে মাথা গোজার ঠাই হত। আমি মৃত্যুর পরও করবে গিয়ে শান্তি পেতাম।
বাংলাদেশ বে-সরকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক মহাসচিব, প্রবীন শিক্ষক ও তিলকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আক্কাছ আলী জানান, দুঃস্থ ও অসহায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের মাথা গোজার জন্য একখন্ড জমির জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরেও এখনও পর্যন্ত কোন সুরাহা করতে পারিনি। তার নামে দুটি জায়গায় ১৯ শতক জমি বরাদ্দের আশ্বাস দিলেও সে এখনও পায় নাই। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারনে ওই জমি ওই গ্রামের প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি লীজ নিয়ে ভোগ দখল করে খাচ্ছে। ওই লীজ বাতিলের জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোন লাভ হয়নি।
এ ব্যাপারে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার হারুন অল রশীদ বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারনে সে এখনও জমি পায় নাই। সরকারের ওই খাস জায়গা ওই গ্রামের প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি লীজ নিয়ে ভোগ দখল করে খাচ্ছে। তবে তিনি আরও জানান, সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে অবিলম্বে ওই প্রভাবশালী দুই ব্যক্তির লীজ বাতিল করে অসহায় বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের নামে বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ জানান, অসহায় বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তা জানা ছিল না। অবিলম্বে ওই প্রভাবশালী দুই ব্যক্তির লীজ বাতিল করে অসহায় ওই বীরমুক্তিযোদ্ধার নামে বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
মানবেতর জীবন থেকে রক্ষার জন্য অবিলম্বে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।#