নওগাঁয় বেসরকারি সংস্থা আরকোর নির্বাহী পরিচালকের অনিয়মের বিরুদ্ধে সদস্যদের প্রতিবাদ সমাবেশ

নওগাঁয় বেসরকারি সংস্থা আরকোর নির্বাহী পরিচালকের অনিয়মের বিরুদ্ধে সদস্যদের প্রতিবাদ সমাবেশ


কাজী রওশন জাহান ঃ নওগাঁয় বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) আরকো’র নির্বাহী পরিচালক সজল কুমার চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন সংস্থার বহিস্কৃত প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা। রবিবার সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে আরকোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে সংস্থার বহিস্কৃত প্রতিষ্ঠাতা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও গ্রামবাসীরা লিখিত ভাবে এই অভিযোগ তুলে ধরেন। 

লিখিত এই অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬সালে আরকো এনজিওটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সময়ে বোয়ালিয়া গ্রামের কয়েকজন বেকার যুবক আর্থ সামাজিক উন্নয়নের ল্েয প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেন। সেই সময় সংস্থাটি একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলো। তৎকালীন সময়ে মরহুম মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হককে সভাপতি করে ১১সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ২০১১সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়ে আসছিলো। 

কিন্তু পরবর্তি সময়ে হঠাৎ কমিটির নির্বাহী পরিচালক সজল কুমার চৌধুরী নিজের ইচ্ছে মাফিক প্রথমে নিয়ম বর্হিভূত ভাবে দুইজন নির্বাহী প্রতিষ্ঠাতা সদস্যকে সাধারন পরিষদ ও নির্বাহী কমিটির অনুমোদন ছাড়াই বহিস্কার করেন। পরবর্তিতে আরো তিনজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যকে একই ভাবে বহিস্কার করেন। এমতাবস্থায় সংস্থাটিকে বাঁচিয়ে রাখার ল্েয নির্বাহী পরিচালক বরাবর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা (বহিস্কৃত সদস্যসহ) বারবার যোগাযোগ করা হলেও সজল কুমার চৌধুরী কোন সুষ্ঠু পদপে গ্রহণ না করায় বহিস্কৃত সদস্য ও গ্রামবাসীরা এই সমাবেশের আয়োজন করে। 

সমাবেশে বক্তারা বলেন যদি দ্রুত সজল কুমার চৌধুরী বিষয়টি বহিস্কৃত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও গ্রামবাসীদের নিয়ে বসে সমাধান না করেন তাহলে সংস্থাটিকে বাঁচানোর ল্েয অচিরেই রাজপথে নেমে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনসহ কঠোর আন্দোলনে নামা হবে। এসময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- সংস্থাটির বহিস্কৃত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মতিউর রহমান, জয়নুল আবেদীন, সাইদুল ইসলাম (সজল), আশরাফুল ইসলাম ও নুরে আলম সিদ্দিকীসহ গ্রামের প্রায় শতাধিক বাসিন্দা।

আরকো’র নির্বাহী পরিচালক সজল কুমার চৌধুরী বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তারা গ্রাহকের নিকট ঋণ দিয়েছে বলে নিজেরাই আত্মসাত করেছে। বিষয়টি যখন জানাজানি হয় এবং তাদেরকে টাকা পরিশোধ করতে হবে তখন তারা নিজেরাই  সংস্থা থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তারা নানা তালবাহানা শুরু করে। পাওনা টাকা পরিশোধ করলে তারা সংস্থায় ফিরে আসতে পারবে।