নওগাঁয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ভিজিডি কার্ডের অনলাইনে আবেদন পূরণ

দূর্নীতি মুক্ত ও স্বচ্ছ ভাবে ভিজিডির কার্ডের সুবিধা দিতে মাইকিং

নওগাঁয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ভিজিডি কার্ডের অনলাইনে আবেদন পূরণ

মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ ঃ নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় দূর্নীতি মুক্ত ও স্বচ্ছ ভাবে ভিজিডির কার্ডের সুবিধা দিতে নওগাঁ সদরের বর্ষাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ভিজিডি কার্ডের জন্যে অনলাইনে আবেদন পূরণ করা হয়েছে। এলাকার মাইকিং করে বুধবার সকালে থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত এই কার্যক্রম করা হয়। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, বর্ষাইল ইউনিয়নে প্রতি বছর ভিজিডি, দু:স্থ্য মাতা, বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন ধরনের সরকারি অনুদান আসে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মহিলা (সংরক্ষিত) সদস্য, সদস্য ও প্রভাশালীরা গোপনে কার্ডগুলোর বরাদ্দ ভাগ করে নেন। এরপর অবৈধ্য সুযোগ সুবিধা নিয়ে বেশি ভাগ অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে কার্ডে তালিকা করা হয়। ফলে সুবিধা প্রত্যাশী বা উপকার ভোগীরা বিষয়টি জানতে না পেরে আবেদনও করতে পারেন না। এতে সরকারি এই সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন প্রকৃত অনেক উপকার ভোগীরা। এ বছরও ভিজিডির বরাদ্দ আসে বর্ষাইল ইউনিয়নে ১৭০ জন নারীর জন্যে (২০ বছর থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত)। ঘটনাটি জানতে পেরে দূর্নীতি মুক্ত ও স্বচ্ছ ভাবে ভিজিডির কার্ডের সুবিধা দিতে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডিএম মনিরুল ইসলাম মিন্টু উদ্যোগ নেন। এরপর মিন্টুর নেতৃত্বে ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ সদর আসনের সাংসদ ব্যারিষ্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জনের সাথে দেখা করেন। 

বর্ষাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডিএম মনিরুল ইসলাম মিন্টু জানান, প্রতি বছর এই কার্ডগুলো করার সময় কার্ডের সুবিধা প্রত্যাশীদের কাছে থেকে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানরা। এমন অভিযোগ ভিত্তিতে দূর্নীতি মুক্ত ও স্বচ্ছ ভাবে ভিজিডির কার্ডের সুবিধা দিতে সাংসদ ব্যারিষ্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জনের সাথে দেখা করা হয়। তাঁর পরামর্শে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে দেখা করা হয়। স্থানীয় সাংসদ ও প্রশাসনের পরামর্শে ও সহযোগিতায় এলাকায় মাইকিং করে ২০ বছর থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত ভিজিডি কার্ড প্রত্যাশীদের দলীয় কার্যালয়ে অনুরোধ করা হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ইন্টারনেইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন পূরণ করানো হয়েছে। 
তিনি আরো জানান, ইউনিয়নে দলীয় কার্যালয়ের মধ্যেমে অনলাইনে প্রায় ৫শ’ জনের আবেদন পূরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রকৃত কার্ডের সুবিধাভোগীদের যাচাই বাচাই করে বরাদ্দ করবে সংশ্লিষ্টা। 
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসে আবেদন করতে আসা কসবা গ্রামের আলা বক্সের স্ত্রী আরিফা বেগম জানান, আগে জানতেও পারতাম না কখন এর তালিকা করা হতো। মাইকিং এর মধ্যেমে জানতে পেরে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভিজিডির আবেদন করতে পেরেছেন। আবেদন করতে আসা সকিনা বেগম, নাফিজা বেগম, খালিদা খাতুনসহ অনেকেই জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্যদের ঘুষ দিতে না পারায় তারা সরকারি এই সুযোগ সুবিধা কখনো পাননি। 
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক শাজাহান আলী জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই আবেদন করে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বিভিন্ন অনিয়ম উঠায় ইউনিয়নের মহিলাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে বিনা টাকায় অনলাইনে আবেদন পূরণ করে দেওয়া হচ্ছে। 
বর্ষাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুজ্জোহা খান জানান, এই ইউনিয়ন থেকে ৮শ’ উপরে ভিজিডির সুবিধা নিতে আবেদন করেছেন। তাদের প্রশাসন, গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ ও যাচাই-বাচাই কমিটির মাধ্যমে তালিকা করা হবে। অপর প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, তিনি শুনেছেন যে অনেকে কার্ডের তালিকা তৈরীতে অবৈধ্য সুযোগ-সুবিধা নেন। কিন্তু কেউ তাকে লিখিত কোন অভিযোগ না করায় কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। 
নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা ইমাম উদ্দিন জানান, বরাদ্দকৃত ভিজিডির কার্ডের বিপরীতে বেশি আবেদন হলে ক্যাটাগরি অনুসারে তালিকা করা হবে। আর যারা পাবেন না তাদের পরিবর্তীতে সরকারের অন্য সুযোগ-সুবিধায় অন্তর্ভূক্তর আওয়ায় নেওয়া হবে।