নওগাঁ-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে ঃ শেষ মুহুর্তের প্রচারনা জমে উঠেছে

আইনশৃংখলাসহ যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন

নওগাঁ-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে ঃ  শেষ মুহুর্তের প্রচারনা জমে উঠেছে


স্টাফ রিপোর্টার ঃ নওগাঁ-৬ রানীনগর-আত্রাই সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে শেষ মূহুর্তের প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। প্রার্থীরা এই দুই উপজেলার গ্রাম থেকে গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে ভোটারদের নিকট ভোট প্রার্থনা করছেন। 

আগামী ১৭ অক্টোবর এই আসনের উপ-নির্বাচনে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামীলীগের নৌকা মার্কা প্রতীক নিয়ে রানীনসগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন হেলাল, বিএনপি’র ধানের শীষ মার্কা প্রতীক নিয়ে শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি’র মনোনীত আম মার্কা প্রতীক নিয়ে খন্দকার মোঃ ইন্তেখাব আলম রুবেল। 

এ দু’টি উপজেলা এক সময় রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের কারনে বর্তমানে এই দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ন পরিবেশ বিরাজ করছে। এ ছাড়াও ব্যপক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষনপূর্বক ভোট প্রার্থনা করছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন হেলাল। এলাকার মানুষ উন্নয়নের পক্ষে। কাজেই তিনি তাঁর জয়ের ব্যপারে শতভাগ আশাবাদী। 

বিএনপি প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু এলাকায় উন্নয়নে অবদান রাখবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে এই দুই উপজেলার গ্রামে গ্রামে ভোটারদের নিকট ভোট চেয়ে প্রচার কার্যক্রম চালিযে যাচ্ছেন। তবে নির্বচানের প্রচারনা কার্যক্রমে তাদের দলীয়ে নেতাকর্মীদের বাদঅ প্রদান করা হচ্ছে। কাজেই আগামী ১৭ অক্টোবরের নির্বাচন শঙ্কামুক্ত নয় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র প্রার্থী। তবে প্রশাসনকে এ ব্যপারে কঠোর নজরদারী করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন তিনি। 

অপরদিকে ন্যাশনাল পিপিলস পার্টির প্রার্থী খন্দকার ইন্তেখাব আলম রুবেল প্রচারনার পুরো সময় ধরে নির্বাচনের মাঠে আছেন। তিনি ভোটারদের নির্বাচন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদান করতে ভোটারদের উৎসাহিত করে প্রচারান চালিয়ে যাচ্ছেন। 

জেলার পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া বিপিএম জানিয়েছেন আগামী ১৭ অক্টোবরের উপ-নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ন এবং অবাধ করতে আইন শৃংখলা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। মোট ৪টি স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।  তিনি জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত নওগাঁ-৬ আসনের দুই উপজেলার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ন রয়েছে। কোন অপ্রীতিকর ঘটনার কোন সংবাদ পাওয়া যায় নি। তিনি জানান নির্বাচনের দিন দুই উপজেলার  ১৬টি ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার পুলিশের সদস্য কর্তব্যরত থাকবেন। প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ম্টো ১৬ জন নির্বাহী  ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ষ্ট্রাইকিং টিম এবং একটি করে মোবাইল টিম থাকবে। এ ছাড়াও প্রতি উপজেলায় আরও একটি কের ষ্ট্রাইকিং টীম এবং একটি করে মোবাইল টীম সার্বক্ষনিক টহলে থাকবে। অপরদিকে জেলায় আরও একটি করে ষ্ট্রাইকিং টীম এবং মোবাইল টীম সার্বক্ষনিক কর্তব্যরত থাকবে। এ ছাড়াও বিজিবি’র ৮টি দল এবং র‌্যাবের ৮টি দল নির্বাচনের দিন এই দুই উপজেলায় কর্তব্য পালন করবে।  অপরদিকে প্রতি কেন্দ্রে ১০ থেকে ১২ জন করে আনসার ভিডিপি’র সদস্য নিয়োজিত রাখা হবে।

নওগাঁ জেলা নির্বাচন অফিসার ও নওগাঁ-৬ উপ-নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন দু’টি উপজেলায় মোট ১০৪টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে রানীনগর উপজেলায় ৪৯টি ও আত্রাই উপজেলায় ৫৫টি। এসব কেন্দ্রে মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭২১টি। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৬ হাজার ৭শ ২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটর ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৭শ ৫৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৯শ ৬৭ জন। 

উপজেলা ভিত্তিক ভোটার সংখ্যা হচ্ছে আত্রাই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ১শ ৩৮ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৮ হাজার ৮শ ৯৩ জন এবং মহিলা ভোটার ৭৮ হাজার ২শ ৪৫ জন। রানীনগর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫শ ৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৪ হাজার ৮শ ৬৫ জন এবং মহিলা ভোটার ৭৪ হাজার ৭শ ২২ জন। 

জেলা নির্বাচন অফিসার আরও জানান আসন্ন উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ই ভি এম প্রক্রিয়ায়। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ইভিএম প্রক্রিয়ার উপর সচেতনতামুলক প্রদর্শনীসভা এবং নির্বাচনের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন কর্মসূচী বাস্তবায়িত হয়েছে।