নওগাঁর সবজির বাজার অস্থিতিশীল বিপাকে ক্রেতা সাধারণ !

ক্রেতাশুন্য বাজার

নওগাঁর সবজির বাজার অস্থিতিশীল বিপাকে ক্রেতা সাধারণ !

মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ : নওগাঁয় প্রায় মাস ধরেই সবজির বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। এখানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সবজি তরি তরকারির দাম। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সবজি কিনতে গিয়ে  ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠলেও আপাতত দাম কমার কোন সম্ভাবনা লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। এ অবস্থায় মধ্য আয়ের ক্রেতাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে ।
শনিবার সকালে নওগাঁর সদরের পাইকারি ও খুচরা কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য সহ সকল প্রকার সবজি চড়া দামে বিক্রয় হচ্ছে । মাত্র ৪/৫  দিনের ব্যবধানেই কোন কোন সবজির দাম প্রতি কেজিতে ৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এভাবে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় অসস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। তবে বিক্রেতারা রয়েছেন নির্বিকার। তারা বলছেন, সবজি বাজারে কম আমদানীর ফলে দাম চড়া হচ্ছে। এজন্য অনেকটা অতি বর্ষণ ও বন্যাকে দায়ী করছেন কৃষক সাধারণ ও বিক্রেতাগণ। পাইকারী বাজারে বেশি দামে সবজি কেনার ফলে খুচরা বাজারেও বেশি দামে তাদের কে বিক্রি করতে হচ্ছে। 
তবে বিক্রেতাদের এই যুক্তি মানতে চাননা অনেক ক্রেতারা। ক্রেতারা বলছেন, বন্যা পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী। যার প্রভাব পড়েছে সবজি বাজারে। 
বাজার ঘুরে সবজি সহ বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রীর দাম অনেকটা চমকে দেবার মতই লক্ষ্য করা গেছে।  মাছ ও মাংস কিছুটা আগের মত স্থিতিশীল থাকলেও সবজির দাম বাড়তি।


এখানে প্রতি কেজি পটলের মূল্য পাইকারি ৬০টাকা খুচরা ৮০টাকা , বেগুন পাইকারি ৪৫টাকা খুচরা ৭০টাকা, বিদেশী আলু পাইকারি ৩৬টাকা খুচরা ৪৫টাকা, দেশী আলু পাইকারি ৪২টাকা খুচরা ৫০টাকা, কাঁচা মরিচ পাইকারি ১৩০টাকা খুচরা ২০০টাকা, শুকনা মরিচ পাইকারি ২৩০টাকা খুচরা ৩০০টাকা, লাউ প্রতিপিস পাইকারি ৩০টাকা খুচরা ৪০টাকা, লেবু প্রতি হালি পাইকারি ১২টাকা খুচরা ২০টাকা,ফুলকপি পাইকারি ১০/১৫টাকা খুচরা ২৫/৩০টাকা,মিষ্টিলাউ পাইকারি ২৫/৩০টাকা খুচরা ৪০/৪৫টাকা, করলা পাইকারি ৬০টাকা খুচরা ৮০টাকা, পেঁপে পাইকারি ১৮টাকা খুচরা ২৮টাকা, পেঁয়াজ পাইকারি ৮০টাকা খুচরা ৯০টাকা, কচু পাইকারি ৩০টাকা খুচরা ৪০টাকা, । এছাড়াও টমেটো , বরবটি ঝিঙ্গার দামেও যেন আগুন লাগার মতো। সহজ লভ্য এই সবজিগুলো আর সহজে পাচ্ছেন না ক্রেতারা। যার কারনে সবজিগুলো কিনতে গিয়েও মূল্য বৃদ্ধির কারনে ঘুরে যেতে হচ্ছে ক্রেতাদের।


তবে অপরিবর্তিত রয়েছে আদা ও রসুনের দাম। এক সপ্তাহ আগেও রসুনের দাম ছিলো কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এখনও একই দামেই পাওয়া যাচ্ছে রসুন। তেমনি আগের দামেই ক্রেতারা কিনতে পারছেন আদা। আদা গত সপ্তাহের মতোই ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। 
বাড়তি দাম নিয়ে ােভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতারা বলেন, আমি প্রায় কাঁচা তরিতরকারির বাজার করি। গত এক মাস ধরেই সব সবজির দাম এখানে অনেক বেশি। মাছ ও মাংসের দাম ঠিক থাকলেও সবজি কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 
সবজি বিক্রেতা বাবলু বলেন, আগের মতো বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজির আমদানী হলে সবজির দাম কমবে। তবে প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারনে সবজির উৎপাদন সময় মত না হলে বাজারে সবজির দাম কমতে আরও সময় লাগতে পারে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।