নওগাঁর মান্দায় উপ-নির্বাচনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে শালা দুলাভাইয়ের ভোটের যুদ্ধ

নওগাঁর মান্দায় উপ-নির্বাচনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে শালা দুলাভাইয়ের ভোটের যুদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার ---

নওগাঁর মান্দায় উপ-নির্বাচনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের মনোনিত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এমদাদুল হক মোল্লা। আর বিএনপি প্রার্থী উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. মকলেছুর রহমান মকে। মান্দা উপজেলার রাজনীতি এখন শালা দুলাভাইয়ের রাজনীতি। উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এমদাদুল হক মোল্লা হচ্ছে মকের দুলাভাই। আবার উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. মকলেছুর রহমান মকে এমদাদুল হক মোল্লার শ্যালক। ঘুরে ফিরে মান্দা উপজেলার রাজনীতির মুল কান্ডরীর দু’জনই আত্নীয়তার বন্ধনে একই পরিবারের লোক। মান্দা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা: মাহবুবা সিদ্দিকা রুমা। সে এমদাদুল হক মোল্লার মেয়ে এবং মকলেছুর রহমানের ভাগ্নি। এবারের উপ-নির্বাচনের পর উপজেলা পরিষদের সংসারের হাল ধরবে বাবা ও মেয়ে নতুবা মামা ভাগ্নি। ঘুরে ফিরে একই পরিবারের সদস্য উপজেলা পরিষদের নানা উন্নয়নের জোয়ার বয়ে দিবে। সেই লক্ষ্যেই আ’লীগের পক্ষে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মো. এমদাদুল হক মোল্লা এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মকলেছুর রহমান মকে ভোটের মাঠে তাদের স্ব-স্ব সঙ্গীয় ত্যাগী নেতাকর্মী নিয়ে একযোগে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছে। তারা যেভাবে পারছে সেভাবে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরছে কাঙ্গিত জনের নিকট। তবে প্রচারের দিক দিয়ে সোসাল মিডিয়া, রাস্তা-ঘাট, মাঠ পথ, প্রান্তর ও গ্রাম-গঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের প্রচারণা বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রচারণা সেই তুলনায় এগিয়ে নিতে পারেনি। নৌকার প্রচার চলছে দুর্বার গতিতে আর ধানের শীষের প্রচার চলছে হেলে দুলে। উভয় গ্রুপের প্রধান একজন দুলাভাই এবং অপরজন শ্যালক হলেও মাঠ ও মাথা গরম করছে অন্য পরিবারের লোকজন। ভোটের সময় উভয় প্রার্থীরই মধুর ব্যবহার। ভোটের পরে তো এমন ব্যবহার, আচার-আচরণ থাকবে? এনিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে বিজয়ের লক্ষ্যে নানা প্রচারে মাঠ কাঁপাচ্ছে আ’লীগ। আর মামলা-হামলা থেকে নিরাপদ থাকতে এবং নিরেপেক্ষ ভোটের আশায় কাঁপছে উপজেলা বিএনপি।
 ভোটের সময় আ’লীগ সরকারের রঙিন বাতির শহরে এবং গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দেয়া বাহারী ঢঙে সাজানো নানা উন্নয়নের পশরা যেমন বিভিন্ন শ্রেণি পেশাসহ সহজ-সরল মানুষের মনে দোলা দিচ্ছে। তেমনি উন্নয়ন হয়নি এমন দু’চারটি বিষয়ও মানুষের হৃদয় ভাঙ্গছে। আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির সরকার আমলে স্থানীয় উন্নয়নের বহু চিত্রই খিলখিল করে দাঁড়িয়ে যখন স্বাক্ষী দিচ্ছে ঠিক তেমনি কিছু উন্নয়ন হয়নি বা হওয়া আশায় প্রহর গুনছে নতুবা যদি অসৎ নেতাকর্মীর বিভিন্ন অনিয়মের গোডাউন ভর্তি হয়ে থাকে এমন দিকটিও নানা শ্রেণি পেশার মানুষের মনে উঁকি ঝুঁকি মারছে। অন্য দিকে পদ-পদবী কিংবা নানা কিছু পাওয়া না পাওয়ার বেদনায় অনেকের মন জ্বলে পুরে ছারখার হচ্ছে। আবার উভয় দলের রাজনীতির মোড়ে মোড়ে বাজছে ভাঙ্গনের সুর। তবুও নিজের দলের জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে ভোটের ময়দানে উভয় দলের নেতাকর্মীরা ঐকবদ্ধ হয়ে নিজ নিজ দলের পক্ষে বিজয়ের বাতি জ্বালাতে দিবানিশি কাজ করে যাচ্ছে বলেও বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় উঠে এসেছে। 
মান্দা উপজেলা বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের দখলে। এ আসনে আ’লীগের পক্ষে ১বার উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ৭ বার এমপি হয়েছে। আ’লীগের ৭ বারে বিজয়ী এমপি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মুহা: ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মন জয় করা রাজনীতির গুরু এবং জনপ্রিয় ও জননন্দিত নেতা মুহা: ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক। ১বার জাতীয় পার্টির প্রয়াত নেতা কফিল উদ্দিন সোনার, ১বার জামায়াতের প্রয়াত নেতা নাসির উদ্দিন জিহাদী  এবং ৩ বার বিএনপির নেতা মো. আবুল হায়ত শামসুল আলম প্রামানিকের দখলে ছিল। মান্দা উপজেলা একসময় বিএনপির দূর্গ ছিল। সেই দূর্গ নানা কারণে ভেঙ্গে চুরমার হয়েছিল। মান্দা উপজেলা আ’লীগ ও বিএনপির অনেকগুলো গ্রুপে বিভক্ত ছিল। ভোটের সময় অবশ্য উভয় দলের সকল গ্রুপই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটের মাঠে ময়দানে নিজ নিজ দলের প্রার্থী ও প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনায় চষে বেড়াচ্ছে বলেও একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় আরো জানা গেছে, আ’লীগের পক্ষের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা সোসাল মিডিয়ায় নানা ঢঙে প্রচার, মোটরসাইকেল শোডাউন ও গ্রাম-পাড়া মহল্লা, বিভিন্ন বাজার, মোড়সহ জনসংগমস্থানে নিজ দলের পক্ষে ভোট প্রার্থনা প্রচারসহ পোষ্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে দিয়েছে। তবে বিভিন্ন শ্রেণি পেশাসহ স্থানীয় পাড়া মহল্লার মানুষের মনের আঙ্গিনায় কতুটুকু পৌঁছিতে পারছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। আবার নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে নেতাকর্মীসহ জনসাধারনের সাথে সম্পর্কের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে যা কমাতে হবে। 
তাছাড়া সরকারের ভাবমুর্তি আরো উজ্জ্বল করতে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন চিত্র স্থানীয়দের ঘরে ঘরে পৌঁছানোসহ জনমন্মুখে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। সেই সাথে বিগত দিনে নেতাকর্মীদের কোন অন্যায়-অনিয়ম যদি থাকে সেগুলোও সাধারনের সাথে ভুল ভ্রান্তি সুধরে নিয়ে বাড়ি, বাড়ি কাজ করতে হবে। সরকারের নানা উন্নয়ন ও কাজের প্রতি আস্থা ফিরে আনতে হবে। সেই সাথে নির্বাচনী প্রচার চালাতে হবে। নেতাকর্মীদেরকে কথাবার্তা ও আচরণে আরো ত্যাগী এবং বিনয়ী হতে হবে। বঞ্চিতদের দলীয়ভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। নির্যাতিত, বঞ্চিত, ত্যাগীরাসহ নানা বেদনার রোগে যারা ভুগছে তাদের মন ও নজর কারতে পারলেই হয়তোবা বিজয়ের বাতি আ’লীগের ঘরে যাবে বলে মনে হচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপিও তাদের হারানো দূর্গটি ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তারাও তাদের মতো করে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে একই কায়দায় প্রচারণার মাঠে কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের চাইতে যুব দলের ভূমিকা তাদের মনের দিক দিয়ে বেশ শক্তিশালী। তাছাড়া মান্দা উপজেলা বিএনপি বন্যা এবং করোনা পরিস্থিতিতে ব্যাপকভাবে জনসন্মুখে আসতে না পারলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা দলকে সুসংগঠিত করতে গ্রাম, ওয়ার্ড, পাড়া মহল্লায় চষে বেড়িয়েছে। গোপনে গোপনে তারা নিজেদের অবস্থানকে মজবুত করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। নানা কারণে বিএনপির আগের সেই জৌসুল আর নেই। তবুও উপজেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এবারের ভোটের মাঠে বিজয়ের হাসি ফুটাতে নানা কায়দা কৌশলে কাজ করে যাচ্ছে বলেও বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ‘আমার ভোট আমি দেব যাবে খুশি তাকে দেব’ এমন স্বাধিন পরিবেশ বজায় থাকলে এবং প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ হলে, হয়রানি, মামলা, হামলা, হট্টোগোল, ভয়-ভীতি ইত্যাদি যদি না থাকে তাহলে বিজয়ের বাতি বিএনপির ঘরেও যেতে পারে বলে একটি বাতাস বইছে বলেও মনে হচ্ছে। এবারের উপ-নির্বাচনে উভয় দলের প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ খুব বেশি ভাল না হলেও নিজ নিজ দলীয় প্রতীকের প্রতিই ঝুঁকছে নেতাকর্মী, সমর্থকসহ দলমনা ব্যক্তিরা। মান্দাতে যে দলই জিতুক তারা একই আতœীয়ের বন্ধনের সাথে মিশে উপজেলা পরিষদের উন্নয়নের সংসারের ঝান্ডা উড়বে বলেও জানা গেছে। তবে বাস্তবে কতটুকু হবে তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারের নানা ভাল কাজের লম্বা লাইনের সেবা নিশ্চিত করনের পাশাপাশি দুখী মানুষের বর্ণমালায় সবাইকে সাথে নিয়ে একযোগে সেবার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তবেই সমাজ, সরকার তথা রাষ্ট্র অনন্য উচ্চতায় এগিয়ে যাবে।