নওগাঁর মহাদেবপুরে কৃষি প্রণোদনায় উফশী জাতের সরিষা চাষ

নওগাঁর মহাদেবপুরে কৃষি প্রণোদনায় উফশী জাতের সরিষা চাষ


কাজী রওশন জাহান ঃ ঃ উত্তরাঞ্চলের শষ্যভান্ডার খ্যাত নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের দেয়া সরকারি প্রণোদনার উন্নত জাতের বীজ ও সার পেয়ে চাষীরা এবার ব্যাপক জমিতে উফশী জাতের সরিষার চাষ করেছেন। ফলে এখানে এবার সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। 
কৃষি বিভাগের দেয় তথ্য মতে, চলতি রবি মওসুমে এই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এবার সরিষা চাষের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৪৩৫ হেক্টরে। সেখানে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে।
এখন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে মাঠে মাঘের হিমেল হাওয়ায় দোল খাচ্ছে সরিষা তে। সরিষার রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের হাতছানিতে কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। যেন সরিষার হলুদ হাসিতে স্বপ্ন দেখছে কৃষক। এ বছর প্রত্যেক সরিষা চাষী অধিক মুনাফা লাভ করবেন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা।
এলাকার চাষীরা বছরের পর বছর স্থানীয় জাতের সরিষা চাষ করে ফলন কম হওয়া ও উৎপাদনে সময় বেশি লাগায় কৃষকেরা সরিষার চাষ কমিয়ে দেন। গত ৩ বছর থেকে মৌসুমের শুরুতে কৃষি বিভাগ ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট’ উদ্ভাবিত অধিক ফলনশীল (উফশী) বারি-১৪ ও বারি-১৫ জাতের সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে। উন্নত জাতের সরিষা মাত্র ৫৫-৬০ দিনে ঘরে তোলা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন হয় প্রায় দেড় হাজার কেজি। সরিষা কেটে ওই জমিতে আবার বোরো ধান আবাদ করা যায়। এতে কৃষি জমির সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
মহাদেবপুর উপজেলায় সরিষা চাষ বৃদ্ধির ল্েয কৃষি বিভাগ প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে ৮৫০ জন কৃষককের মধ্যে ১ কেজি করে উন্নত জাতের বীজ, ২০ কেজি করে ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ও ১০ কেজি করে এমওপি (মিউরেট অফ পটাশ) সার বিতরণ করে।
উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কৃষক তিীশ চন্দ্র, সুকুমল প্রাং ও ধর্মপুর গ্রামের কৃষক ইনছের আলীসহ কয়েকজন কৃষক জানান, আমন ধান কাটার পর জমি তৈরি করে সরিষা আবাদ করা হয়। ৫৫-৬০ দিনের মাথায় সরিষা ফলন ঘরে আসে। ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে খরচ হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ৭-৮ মণ ফলন হয় সরিষার, যা বর্তমান বাজারে বিক্রি হবে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়।
তারা জানান, আমন ধান কাটার পর জমিগুলো পড়ে থাকতো। তাই প্রতিবছর সরিষা চাষ করছেন তারা। জমিতে সরিষা চাষের সময় সার প্রয়োগ করলে বোরো রোপণের জন্য আলাদাভাবে সার দিতে হয়না। এটা অনেক উপকারে আসে। কারণ সরিষা কাটাই-মাড়াই করে সেটা বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে বোরো ধান লাগানো যায়। এটা তাদের স্বল্প খরচে একটা বোনাস ফসল। 
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা সরিষা চাষ বৃদ্ধির ল্েয সরকারিভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। প্রণোদনা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা যতণ ফসল ঘরে না তুলছেন ততণ কৃষি বিভাগ তাঁদের পাশে থাকবে’। 
তিনি বলেন, ‘বারি-১৪ সরিষা বপনের মাত্র ৫৫-৬০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। কৃষকরা সরিষা উত্তোলন করে বোরো আবাদ করতে পারেন বলে এটাকে ‘ফাও ফসল’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। এ জাতের সরিষা গাছ লম্বা। এর পাতা মাটিতে ঝরে পরে জৈব সারের কাজ করায় জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ে। সরিষা আবাদের পর জমিতে বোরো ধান আবাদে সারের পরিমান তুলনামূলক খুবই কম লাগে।#