ধামইরহাটের”আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান”দ্বিতৃয়টি আর কোথাও নেই,তবুও দীর্ঘসময় ধরে অবহেলিত

ধামইরহাটের”আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান”দ্বিতৃয়টি আর কোথাও নেই,তবুও দীর্ঘসময় ধরে অবহেলিত

স্টাফ রিপোর্টার ---

রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় পাইকবান্ধা রেঞ্জের অধীন ধামইরহাট বিটে অবস্থিত আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানটি।
লিখতেই মনে পড়ে যায়;

পৃথিবীর সব ঘুঘু ডাকিতেছে হিজলের বনে,পৃথিবীর সব রূপ লেগে আছে ঘাসে,পৃথিবীর সব প্রেম আমাদের দু’জনার মনে, আকাশ ছড়ায়ে আছে শান্তি হয়ে আকাশে।
– জীবনানন্দ দাশের লিখা ‘রুপসি বাংলা’র কথাটি।

আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানের মোট আয়তন ২৬৪.১২ হেক্টর। ইহা মইশুড়, জয়জয়পুর, ছোট মোল্লাপাড়া, বাখরপুর, চকযদু, জোতমামুদপর ও দাদনপুর মৌজার ১৩১.৫৭ হেক্টর সংরক্ষিত বন, ৩৫.৪৯ হেক্টর রক্ষিত বন ও ৯৭.০৬ হেক্টর অর্জিত বন এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। শালবন এলাকার মাঝে ৪২.৮১ একর আয়তনের একটি বিশাল দিঘী বিদ্যমান আছে। এর নাম আলতাদিঘী। নওগাঁ জেলার এই দিঘীর ন্যায় বৃহৎ ও মনোমুগ্ধকর দিঘী আর কোথাও নেই দ্বিতৃয়টি। দিঘীটির পাড় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রাধীন এবং জলাশয় জেলা প্রশাসক, নওগাঁর খাস খতিয়ানভূক্ত। দিঘীটির দৈর্ঘ্য ১.২০ কিঃমিঃ, প্রস্থ ০.২০ কিঃমিঃ। দিঘীটির উত্তর, দক্ষিন, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে বন বিভাগের সৃজিত বাগান ও প্রাকৃতিক শালবাগান রয়েছে, পূর্ব পার্শ্বে কিছু সাঁওতাল ও আদিবাসী উপজাতীর বসবাস রয়েছে। আলতাদিঘীর চতুর্পাশের বাগান, প্রাকৃতিক শালবন এবং সাঁওতাল ও আদিবাসীদের ভিন্নধর্মী জীবনাচারন দীঘিটির গুরুত্ব ও সৌন্দর্য্য আরও বৃদ্ধি করেছে যা উপভোগ করার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রচুর দর্শনার্থী আলতাদিঘী পরিদর্শনে আসেন প্রতিনিয়তই(তথ্য : বন বিভাগ, নওগাঁ)।

বর্তমানে দিঘীতে চিত্ত বিনোদনের জন্য তেমন কোন সুযোগ সুবিধা নেই।
ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর চাপ, বনভূমি সংকোচন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের ফলে ধামইরহাট শালবন এলাকার জীববৈচিত্র্য হুমকীর মুখে। প্রাকৃতিকভাবে শাল এখানকার প্রধান বৃক্ষ হলেও আজ তা ক্ষয়িষ্ণু প্রজাতীর বৃক্ষ। সহযোগী প্রজাতী যেমন-আমলকী, হরিতকীর বহেরা, শিমুল, কুম্ভী, তেন্ডু ইত্যাদি এখন আর নেই বললেই চলে। খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবে এলাকাটি এখন বন্যপ্রাণী শুন্য। অথচ একদা এলাকাটি প্রচুর শিয়াল, বেজী, বন বিড়াল, খেক শিয়াল, গুইসাপ ও হরেক রকমের পাখীর কলকালীতে পরিপূর্ণ ছিল।এবং এখনো শীতকালীন সময়ে দেখা যায় রং বেরঙের নানা প্রজাতীর শত শত অতিথী পাখির।তবে সরকারীভাবে যথাযথ উদ্দ্যেগ নিলে বন টি ফিরে পাবে তার হারানো ঐতির্য্য।হতে পারে বাংলাদেশের সেরা পর্যটনগুলোর একটি।দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আলতাদিঘী জাতীয় উদ্দ্যানের হচ্ছে না তেমন কোন উন্নয়ন।অবহেলিত হয়ে আছে এই দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক ঐতির্য্য।আর এই দীর্ঘ সময় কোন কাজ না হওয়ার ফলে দেখা দিয়েছে দীঘিটির দুই পাড় ভাংগা সহ অনেক কিছু সমস্যা।দূরের পর্যটকদের নেই কোন রাত্রি যাপনের সু-ব্যবস্থা।তারপরেও দুর দুরান্ত থেকে প্রতিনিয়তই আসছে ভ্রমন পিপাসু অনেক পর্যটক।

“দীঘিটি ঘিরে কথিত আছে যে,আনুমানিক ১৪০০ খ্রীষ্টাব্দে এ অঞ্চলের রাজা বিশ্বনাথ জগদল রাজত্ব করতেন। সেই সময় এতদাঞ্চলে পানির অভাব প্রকট ধারন করেছিল। একদিন রানী স্বপ্নে দেখলেন যে, উক্ত এলাকার পানির সমস্যা নিরসনের জন্য একটি বৃহৎ দিঘী করতে হবে। সেই মতে রাণী রাজাকে বললেন আমি পায়ে হেটে যাব এবং যতক্ষন পর্যন্ত আমার পা ফেটে রক্ত না বের হবে ততক্ষন পর্যন্ত হাঁটতে থাকব। আমি যতদুর পর্যন্ত হাঁটব ততবড় একটি দিঘী খনন করে দিতে হবে। রাণীর কথামত পাইকপেয়াদা বাঁদিসহ রাণী হাঁটতে শুরু করলেন। হাঁটতে হাঁটতে রাণী বহুদুর চলে যাচ্ছিলেন। তখন পাইক পেয়াদারা চিন্তা করল রাণী যদি হাঁটতে থাকেন তাহলে রাজার পক্ষে এতবড় দীঘি খনন করা সম্ভব হবে না। তাই তারা হাঁটার এক পর্যায়ে রাণীর পিছন থেকে রাণীর পায়ে আলতা ঢেলে দিয়ে চিৎকার করে উঠে বলল রাণী মা আপনার পা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। তখন রাণী মা উক্ত স্থানে বসে পড়লেন। রাজা বিশ্বনাথ সে পর্যন্ত উক্ত দীঘিটি খনন করলেন। রাণীর পায়ে আলতা ঢেলে দেওয়ার প্রেক্ষিতে দিঘীটির নামকরণ করা হয় “আলতাদীঘি”। শালবনের মাঝে প্রাকৃতিকভাবে সৃজিত খাল রয়েছে। উহার কিছু অংশে স্বল্প পরিমাণে পানি প্রবাহ বিদ্যমান।
আসতে পারেন,
রাজশাহী হতে ১১০ কিঃমিঃ উত্তরে’ নওগাঁ জেলা সদর হতে ৬০ কিঃমিঃউত্তরে ‘জয়পুরহাট জেলা সদর হতে ২৭ কিঃমিঃ পশ্চিমে’ বগুড়া জেলা সদর হতে ৮০ কিঃমিঃ পশ্চিমে’এবং ধামইরহাট উপজেলা হতে উত্তরে প্রায় ৫ কিঃমিঃ’এর মধ্যে এই বনাঞ্চল তথা জাতীয় উদ্দ্যানটির অবস্থান।

ঢাকা হইতে সরাসরি আসার জন্য রয়েছে বিলাস বহুল বাস সার্ভিস ও জয়পুরহাট জেলা অব্দি রয়েছে ট্রেন।

এলাকাবাসী সহ সুধী মহলের দাবী,সরকার সহ বন অধিদপ্তরের উচিৎ যথাযথ সু-ব্যবস্থা গ্রহন করে অতিশয় দীঘিটি তথা বাংলাদেশের এই এতির্য্যবাহী আলতাদীঘি জাতীয় উদ্দ্যান কে সংস্কার সহ রক্ষা করা ও অন্যান্য সেবাগুলো সৃষ্টি করা।