ডিজিটাল যড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে: মিজানুর রহমান মিনু

ডিজিটাল যড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে: মিজানুর রহমান মিনু


এমদাদুল হক সুমন ঃ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ডিজিটাল যড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই সরকার এতো নিলজ্ব হয়ে গেছে যে শহীদ রাষ্ট্রপতির জিযাউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিল করতে চাচ্ছে। শেখ হাসিনা সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখতে চাচ্ছে। তা বিএনপির নেতাকর্মীরা কখনও হতে দিবে না।
তিনি বলেন, সিকিমের মতো পৃথিবীর মানচিত্র থেকে বাংলাদেশের নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সিকিমের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লেন্দুপ দর্জির মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দালাল সরকারে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশকে সিকিমের মতো ভারতের কাছে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে হাসিনা।’ 
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে  মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ জেলা বিএনপি আয়োজিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন,‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার তাদের বিদেশী বেনিয়া দালাল ভারত এবং তাদের মহাপ্রভু ইসরাইলের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের মানুষের রক্ত চুষে খাচ্ছে। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের মানুষ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হচ্ছে। একটি বিষাক্ত বাজপাখি বাংলাদেশের আকাশে উড়ছে। সেই বাজপাখি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে বাংলাদেশের ম্যাপকে ছো মেরে তুলে নিতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কোনো দিন মাথানত করেনি, কোনো দিন করবেও না। এই ষড়যন্ত্রকে কোনো দিন বাস্তবায়ন করতে দেবে না। আগামী মার্চ মাস থেকে সারাদেশে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে।
এসময় সাংসদ হারুন-অর-রশীদ এমপি বলেন, ‘আজকে বলা হচ্ছে, সারাদেশে উন্নয়নের রোল মডেল চলছে। আসলে প্রকৃতপক্ষে উন্নয়নের নামে চলছে লুটপাট। পদ্মা সেতু ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। সেই সেতু প্রথমে বলা হলো আঠারো সালে শেষ হবে। ২০১৯ ও ২০০০ সাল গেল। এখন ২০২১ সালে বলা হচ্ছে ২০২২ সালে সেতুর কাজ শেষ হবে। ৮ হাজার কোটি টাকার সেতুর বাজেট এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। আজকে বলা হচ্ছে, পদ্মা সেতু নিজস্ব টাকায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের জন্য চীন ও ভারত থেকে ঋন নেওয়া হচ্ছে। সরকার এসব তথ্য গোপন রাখছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা যে তথ্য প্রকাশ করেছে সেই দিক থেকে জনগণের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে শহীদ জিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। শহীদ জিয়ার খেতাব কেড়ে নেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট ও খেতাব দিয়ে গেছেন। আজকে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর মাফিয়া চক্রের পরামর্শে শহীদ জিয়ার খেতাপ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে কোনো দিন শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলা যাবে না।’ 
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আগামী ১ মার্চ থেকে বিএনপি বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা সেসব কর্মসূচি সফল করার জন্য বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় জেলা বিএনপির আহবায়ক মাষ্টার হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্না মহাসচিব হারুন অর রশিদ এমপি, সাবেক এমপি সামসুল আলম ও রায়হান আকতার রনি, নওগাঁ পৌরসভার মেয়র ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজমুল হক সনি, । জেলা বিএনপির যুগ্না আহাবায়ক নাসির উদ্দিন আহম্মেদ ও রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।#