গলা কেটে ও এসিড ঢেলে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ, ৯ দিনেও আসামী গ্রেপ্তার নেই

মান্দায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব

গলা কেটে ও এসিড ঢেলে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ, ৯ দিনেও আসামী গ্রেপ্তার নেই


স্টাফ রিপোর্টার ঃ নওগাঁর মান্দায় পারিবারিক মাত্র ৪ শতক সম্পত্তি নিয়ে অখিল দাসকে নিম গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন, গলা কেটে ও এসিড ঢেলে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনায় টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে না পারায় বাড়িতে বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন এসিড দগ্ধ অখিল দাস। এ ঘটনার ১৩ দিন ও মামলা দায়েরের ৯ দিন পার হলেও প্রভাবশালী ও অর্থবিত্ত আসামীদের রহস্যজনক ভাবে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে পরিবার ও বাদিদের ন্যায় বিচার না পাওয়ায় আশঙ্কায় রয়েছে।
১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে কুসুম্বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (দীঘিরপাড়ে) পেছনে জঙ্গলে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।  
জানা গেছে, মান্দা উপজেলার কুসুম্বা দীঘিরপাড়ের বাসিন্দা অখিল দাস ও সুবাস দাস এবং কার্ত্তিক দাসগং। তারা কাকাতো-জ্যাটাতো ভাই। পারিবারিক মাত্র ৪ শতক সম্পত্তি নিয়ে গরীব অখিল দাস ও প্রভাবশালী ও অর্থবিত্ত সুবাস দাসগংদের মধ্যে দ্বন্দ্বে দেখা দেয় ১২ বছর আগে। এই নিয়ে একাধিক মামলাও রয়েছে তাদের মধ্যে। এমতাবস্তায় ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে কুসুম্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে নিমের গাছের সাথে অখিল দাসকে গাছের সাথে বেঁধে গলা কেটে ও এসিড ঢেলে হত্যা চেষ্টা করেন সুবাস দাসগং। কিন্তু ভাগ্যক্রমে অখিলের আতœচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। এরপর তাদের সহযোগিতায় অসুস্থ্য অবস্থায় মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে রামেকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টাকা অভাবে চিকিৎসা করতে না পেরে বাড়িতে বিছানায় পরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়াই করছেন অখিল দাস। 
নির্যাতনের শিকার অখিল দাস জানান, ঘটনার রাতে তার ছেলে সমর দাসকে অন্য বাড়িতে রেখে আসার সময় রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সুভাষ দাস, কার্ত্তিক দাস, নিমাই চন্দ্র, ধীরেন্দ্র দাসসহ আরো অজ্ঞাত ২ জন তাকে ঘিরে ধরে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে গাছের সাথে রশ্মি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর লাঠিসোডা দিয়ে মারপিটের এক পর্যায় গলায় চাকু চালায়। রাতের অন্ধকারে গলায় বেঁধে রাখা গামছা উপর দিয়ে চাকু চলে যাওয়ায় গলা কেটে যায়। এরপর তার এসিড গলা ও বুকে ঢেলে দেয়। আমার মৃত্যু নিশ্চিত জেনে চলে যাওয়া শুরু করে। এসময় কোন ভাবে মুখ খুলে যাওয়ায় আতœচিৎকার শুরু করলে ওরা পালিয়ে যায়। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ওই সম্পত্তি আমাদের। বিচারশালিস না মেনে কার্ত্তিক দাসগং প্রভাব খাটিয়ে দখল করে রেখেছে। এ সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই ভাবে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসিডে দগ্ধের চিকিৎসা না থাকায় রামেকে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার গলায় ৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও এসিডে গলা, বুক, পেট ও হাতের অনেক অংশ ঝলছে গিয়েছে।
অখিল দাসের স্ত্রী বিউটি রাণী জানান, তাদের সম্পত্তি বলতে কিছুই নেই। তার স্বামী হাট-বাজারে বাদাম ও চানাচুর বিক্রি করে সংসারের খরচ মেটাতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অখিল দাস বিছানায় পরে থাকায় কি করে সংসারের খরচ মেটাবেন সেই দুশ্চিন্তাই রয়েছেন তারা। 
প্রতিবেশি শিউলী রাণী জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯ টার দিকে স্কুলের পেছনে একটি লোকের আতœচিৎকারে তিনিসহ অনেকেই এগিয়ে এলে কিছু লোক দৌড়ে পালিয়ে যায়। এরপর নিম গাছে দড়ি দিয়ে বাঁধা ও মুখ গামছা পেঁচানো অবস্থায় অখিলকে উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে ঢেলে দেওয়া এসিডের তীব্রতায় বুক, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়ে যায়। রাতেই দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। 
স্থানীয়রা দিলীপ কুমার দাস অভিযোগ করে বলেন, অখিলকে নির্যাতন, গলা কেটে ও এসিড দিয়ে হত্যার চেষ্টার মতো এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় মামলা দায়েরের পরও আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় রহস্যজনক ভাবে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। ফলে মামলার আসামীরা এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেরাচ্ছেন। আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
মামলার আসামীদের কাউকে বাড়িতে না পাওয়া গেলেও কার্ত্তিক দাসের স্ত্রী আঙ্গুরী দাস জানান, পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা শেষে আমাদের ভাগে সম্পত্তি ভোগ দখল করছিলাম। ওই সম্পত্তি অখিল দাস পাবে দাবি করে একাধিকবার মামলা ও দখলের চেষ্টা করে আসছেন। ঘটনার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার রাতেই তার স্বামী ও জামাইরা বাড়িতেই ছিলেন। ঘটনার পর মামলার আসামী স্বামীগং বাড়িতেও থাকে আবার কিছু সময় আতœগোপনে থাকে। 
কার্ত্তিক দাসের মেয়ে সাগরি রাণী জানান, ঘটনার পর এলাকার লোকজন নানান কথা বলায় রাতে বাড়িতেও থাকেন, আতœগোপনেও থাকেন। 
নির্যাতনের শিকার অখিল দাসের ছেলে ও মামলার বাদি সমর কুমার দাস জানান, টাকা অভাবে বাবাকে রামেকে থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি নিয়ে আসা হয়। পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এখন পর্যন্ত আসামীদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। এতে ন্যায় বিচার না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তিনি ও তার পরিবার। তিনি আরো জানান, আসামীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্যে পুলিশের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সুভাষ দাস, কার্ত্তিক দাস, নিমাই চন্দ্র, ধীরেন্দ্র দাসসহ আরো অজ্ঞাত ২ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে কোন মহলের প্রভাব নেই। সঠিক তদন্ত করে প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে।