কিংবদন্তি ফুটবলের যাদুকর দিয়াগো ম্যারাডোনা আর নেই

কিংবদন্তি ফুটবলের যাদুকর দিয়াগো ম্যারাডোনা আর নেই

ফুটবলার হিসেবে তিনি অতুলনীয়। আর্জেন্টাইন এই মহাতারকাকে বলা হয় ফুটবল ঈশ্বর। অনেকে ডাকেন গোল্ডেন বয়ও। তবে বুটজোড়া তুলে রাখার পরও নিয়মিতই হয়েছেন খবরের শিরোনাম। ভালো-মন্দের মিশেল তো তাতে ছিলই। নিজের অন্ধকার জীবন নিয়ে কথা বলতে কখনোই লজ্জা পেতেন না ম্যারাডোনা। আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট থেকে ফিফা সভাপতি, কাউকে নিয়ে কটুক্তি করতেও দু'বার ভাবতেন না দিয়েগো।  

বুয়েনস আইরেসে বড় হয়ে ওঠা ম্যারাডোনা মাত্র ১৬ বছর বয়সে সুযোগ পান আর্জেন্তিনার জুনিয়র দলে। টানা ৫ বছরে খেলেন ১৬৭ ম্যাচ, গোল করেন ১১৬।
১৭ বছর বয়সেই আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে। বোকা জুনিয়র্সে মাত্র ১ বছর খেলেন। তারপরেই বার্সেলোনা। ৪০  ম্যাচে ২৮ গোল! হঠাৎই বার্সেলোনা ছেড়ে যোগ দেন নাপোলিতে। নাপোলির হয়ে খেলেন ১৮৮ ম্যাচ। গোল করেন ৮১। দেশের হয়ে ৪টি বিশ্বকাপ খেলেন তিনি। ১৯৮২ তে প্রথম। ততদিনে বিশ্ব ফুটবলে নিজের ছাপ রাখতে শুরু করেছেন। প্রথম বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার পেরিয়ে মাত্র ২ গোল।

তারপরই ইতিহাস। ১৯৮৬। মহাতারকার জন্ম। আপাত সাধারণ আর্জেন্টিনা দল নিয়ে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ তোলেন অধিনায়ক ম্যারাডোনা। ১৯৯০য়ে মধুর প্রতিশোধ নেয় জার্মানি। দলকে ফাইনালে তুলেও ম্যারাডোনার হাতে উঠল না বিশ্বকাপ। ১৯৯৪তে খেলেন শেষ বিশ্বকাপ। তবে তা ছিল নেহাতই কলঙ্কময়। মাদক পরীক্ষায় পাশ করতে না পেরে মাত্র ২ ম্যাচ খেলেই ফিরে যেতে হয় দেশে। দেশের হয়ে ৯১ ম্যাচে ৩৪ গোল করেন ম্যারাডোনা। 

ক্লাব ফুটবলে করেছেন ২৫৯ গোল। ম্যাচ খেলেছেন ৪৯১। ওই একই বছরে কোচ হিসেবে  কাজ শুরু করেন। কিন্তু ফুটবলার হিসেবে যে উচ্চতায় বিরাজ করেছেন, তার ধারেপাশেও ছিল না তার কোচিং জীবন। মেক্সিকো বিশ্বকাপে একটা সাধারণ আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে যেভাবে পশ্চিম জার্মানি, বেলজিয়াম আর ইংল্যান্ডকে টপকে গিয়েছিলেন ২৫ বছরের যুবক, তা বিস্ময়েরই। কারণ, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমনটা আর দেখা যায় নি।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম গোল নিয়ে যা বিতর্ক, তাতে যা জবাব দিয়েছিলেন, তা তাকেই মানায়। 'ঈশ্বরের হাত' বিশ্ব ফুটবলের এমন এক কয়েনেজ হয়ে দাঁড়ায়, যার তুলনা মেলা ভার। ঈশ্বর তখনই বোধহয়, তার বরপুত্রের পাশে এসে দাঁড়ান, আর একই ম্যাচে প্রতিপক্ষের ৬ জন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে সেই গোল, যা দেখে টিভি ধারাভাষ্যকার বলে ওঠেন, 'কোন গ্রহ থেকে এসেছেন'?

৬০ বছরের জন্মদিন কাটতে না কাটতেই মস্তিষ্কের অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন ম্যারাডোনা। ম্যানেজারের কথায়, সেরেও উঠছিলেন। বাড়ি যাওয়ার জন্য বায়না করছিলেন। শেষরক্ষা হল না। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ফুটবলের রাজপুত্র। এমন একদিনে, যেদিন তার জীবনের আইকন ফিদেল কাস্ত্রোরও মৃত্যুদিন।