করোনা প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে খুলে দেওয়া হয়েছে সান্তাহারে শখের পল্লী ॥ আতঙ্ক জনমনে

করোনা প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে খুলে দেওয়া হয়েছে সান্তাহারে শখের পল্লী ॥ আতঙ্ক জনমনে

আব্দুর রউফ রিপন ঃ সারা বিশ্বে মহামারী করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকার করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিভিন্ন ধরনের পদপে গ্রহন করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে শিা প্রতিষ্ঠানসহ সকল প্রকার বিনোদন পার্ক।
কিন্তু করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নওগাঁর পাশ্ববর্তি ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের বশিপুরে ব্যক্তিগত ভাবে পরিচালিত বিনোদন পার্ক ‘শখের পল্লী’ খুলে দেওয়া হয়েছে। জেলার কোথাও কোনো বিনোদন পার্ক খোলার কোন অনুমতি না থাকলেও এ পার্কটি গত ৪জুন খুলে দেওয়া হয়েছে। পার্কটি খুলে দেওয়ার কারণে শত শত লোক বিভিন্ন এলাকা থেকে সেখানে আসা যাওয়া করছে। সেখানে কতটুকু স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানা হবে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে অতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিনোদন পার্ক শখের পল্লীর সদর গেটে স্বাস্থ্য বিধি অনুসারে সামাজিক দূরত্ব মেনে শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয় ও হাত ধোয়ার পরে ভিতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। তবে ভিতরে প্রবেশ করে দেখা গেলো অন্যকিছু। ছেলে-মেয়ে একত্রে বসে সময় কাটাচ্ছে। যতোগুলো ছেলে-মেয়েদের দেখা গিয়েছে তাদের একজনের মধ্যেও কোনো সামাজিক দূরত্ব নেই। গেটের বাহিরে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চললেও ভিতরে কোনো স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে না।


বিনোদন পার্ক শখের পল্লীর স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম বলেন, কারিগরি স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিপত্র অনুযায়ী পার্কটি খোলা হয়েছে। এ বিষয়ে নেটে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে কোন অনুমতি নেওয়া আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাদের নিকট থেকে অনুমতি নেওয়ার কোন দরকার নেই। তাছাড়া আমি সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিধি মেনেই পার্ক পরিচালনা করছি ।
সান্তাহার পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু বলেন, সরকার স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে বললেও বিনোদন পার্ক খুলতে বলেছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে তিনি বলেন, এই সময়ে পার্কটি খোলা যুক্তি সঙ্গত হয়নি। তাছাড়া পৌর এলাকার মধ্যে হলেও আমাদের কাছ থেকে কোন অনুমতি নেয়নি।
আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র জার্জিস আলম রতন পার্ক খোলার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে কোন অনুমতি নিয়েছেন কিনা তিনিই ভালো এ বিষয়ে বলতে পারবেন।
সান্তাহার নাগরিক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবিন বলেন, এই করোনা ভাইরাসের মধ্যে পার্ক খোলা ঠিক হয়নি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পারবে না। বাচ্চারা পার্কে গিয়ে যে বিনোদন উপভোগ করবে সরকারি স্বাস্থ্য বিধি তা কখনো নিয়ন্ত্রণ হবেনা। ফলে আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে যাবে। পার্কতো বিনোদনের জন্য হলেও মহামারীতে জীবনের থেকে বিনোদন বড় কিছু নয়। পার্কে আসা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বগুড়া জেলা  প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, এ সময়ে পার্ক খোলার কোন অনুমতি নাই। সান্তাহারে বিনোদন পার্ক শখের পল্লী খোলা হয়েছে তিনি জানেন না।  দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।